সাবুদানা খাওয়ার উপকারিতা জানলে অবাক হবেন
ডার্ক চকলেট খাওয়ার নিয়ম-ডার্ক চকলেটের পুষ্টিগুণসাবুদানা খাওয়ার উপকারিতা জানলে আপনারা অবাক হবেন। এটি এত পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ যে
ছোট বড় সকলের জন্য অনেক উপকারী। সাবুদানাকে সুপার ফুড বলা হয়। সাবুদানায় রয়েছে
প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম যা আমাদের শরীরের হাড়ের গঠন মজবুত
করতে সাহায্য করে।
আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে সাবুদানা খাওয়ার উপকারিতা। আপনি যদি এর উপকারিতা
সম্পর্কে জানতে চান তাহলে এই আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
তাহলে চলুন বন্ধুরা জেনে নেয়া যাক সাবুদানার সব আশ্চর্য উপকারিতা, খাওয়ার নিয়ম
সহ আরো অনেক তথ্য।
পেজ সূচীপত্রঃ সাবুদানা খাওয়ার উপকারিতা
- সাবুদানা খাওয়ার উপকারিতা
- সাবুদানা খেলে কি মোটা হয়
- সাবুদানা খাওয়ার নিয়ম
- গর্ভাবস্থায় সাবুদানা খাওয়ার উপকারিতা
- দুধ সাবু খাওয়ার উপকারিতা
- সাবুদানা খেলে কি পায়খানা নরম হয়
- আসল সাবুদানা চেনার উপায়
- শিশুদের সাবুদানা খাওয়ার উপকারিতা
- সাবুদানা খাওয়ার অপকারিতা
- লেখক এর মন্তব্যঃ সাবুদানা খাওয়ার উপকারিতা
সাবুদানা খাওয়ার উপকারিতা
সাবুদানা খাওয়ার উপকারিতা যে কত তা আমরা অনেকেই জানি। আবার কারো কারো সাবুদানার
উপকারিতা সম্পর্কে কোন ধারণাই নেই। সাবুদানা অত্যন্ত পুষ্টি গুণে ভরপুর একটি
খাবার যা আমাদের পেটের জন্য অত্যন্ত উপকা্রি। প্রতিদিন সাবুদানা দুধের সঙ্গে
মিশিয়ে খেলে অস্টিওপোরোসিস এবং আর্থ্রাইটিস এর মত রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
সাবুদানায় প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট থাকে যা শরীরে দ্রুত শক্তি যোগায়।
এটি শরীরের ক্লান্তি দূর করে এবং দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার শক্তি যোগায়। সাবুদানা
হালকা নাস্তার জন্য খুবই উপযোগী একটি খাবার। সাবুদানা রান্নার পরে খুবই নরম জেলির
মত হয়ে যায় এটি সহজে হজম হয়। তাই যারা দীর্ঘ অসুস্থতার পর হালকা খাবার খেতে
চান তারা সাবু দানা খেতে পারেন কারণ এটি সহজে হজম হবে। সাবুদানাতে রয়েছে উচ্চ
ক্যালোরি এবং কম ফ্যাট। যারা স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন বাড়াতে চান তারা নিয়মিত
সাবুদানা বেশি পরিমাণে খেতে পারেন।
সাবুদানা শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে গরমের দিনে তাপমাত্রা
অতিরিক্ত হলে সাবুদানা খেতে পারেন। এটি তাপমাত্রার সাথে ভারসাম্য বজায় রেখে
আপনার শরীরকে ভালো রাখবে। সাবুদানা গ্লুটেন মুক্ত একটি খাবার। তাই যাদের শরীরে
গ্লুটেনের সমস্যা রয়েছে তারা নিশ্চিন্তে সাবুদানা খেতে পারেন। এতে রয়েছে
পটাশিয়াম যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকারী ভূমিকা পালন করে।
সাবুদানাই রয়েছে ফোলেট এবং ভিটামিন বি কমপ্লেক্স যা গর্ভবতী মহিলাদের জন্য
উপকারী। এটি ভ্রুনের বিকাশে সাহায্য করে এবং শিশুর মস্তিষ্ক গঠনেও ভূমিকা পালন
করে থাকে। সাবুদানায় থাকা ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং আয়রন হাড় মজবুত করতে
সাহায্য করে। এটি অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করতেও ভূমিকা রাখে। সাবুদানা রয়েছে
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যামিনো এসিড যা ত্বককে উজ্জ্বল করতে এবং ত্বককে কোমল করতে
সাহায্য করে।
সাবুদানায় যেহেতু উচ্চ ক্যালরি এবং কার্বোহাইড্রেট রয়েছে তাই এটি অতিরিক্ত
পরিমাণে খাওয়া যাবে না। অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে রক্তের শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে
পারে যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। তাই সাবুদানা থেকে উপকারিতা পেতে হলে
এটি পরিমিত পরিমানে নিয়মিত খেতে হবে তাহলে এ থেকে উপকারিতা পাওয়া যাবে। আমরা
যেহেতু উপকারের জন্যই সাবুদানা খাব তাই এটি পরিমিত পরিমাণে খাব যেন তা আমাদের
শরীরের জন্য উপকারী হয়।
সাবুদানা খেলে কি মোটা হয়
সাবুদানা খেলে কি মোটা হয় এ বিষয়টি আমাদের অবশ্যই সকলের জানা দরকার। অনেক মানুষ
আছে সাবুদানা খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু তাদের জানা নেই এর ফলাফল কি বা এটি খাওয়ার
ফলে শরীরে কি প্রভাব পড়বে। আপনি যদি সাবুদানা খেয়ে ওজন বাড়াতে চান তাহলে
সাবুদানা ঘি, চিনি, দুধ এগুলোর সাথে মিশিয়ে নিয়মিত খাবেন তাহলে এটি আপনার ওজন
বাড়াতে সাহায্য করবে। কেননা সাবুদানাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি এবং
কার্বোহাইড্রেট যা ওজন বাড়ানোর অনুকূলে।
আর আপনি যদি ওজন কমাতে চান সাবুদানা খেয়ে তাহলে আপনাকে এটি পরিমিত পরিমাণে
সপ্তাহে ২-৩ দিন খেতে হবে। আর খাওয়ার সময় অবশ্যই দুধ চিনি ঘি এগুলো থেকে বিরত
থাকবেন। সাবুদানায় রয়েছে প্রচুর ক্যালরি তাই আপনাকে ওজন কমানোর জন্য সাবুদানা
খেতে হলে এটি খাওয়ার পর শারীরিক ব্যায়াম করতে হবে। কেননা ক্যালোরি গ্রহণ করার
পর যদি আপনি সেই ক্যালোরি ক্ষয় না করেন তাহলে আপনার ওজন বেড়ে যাবে।
সাবুদানা মোটা হওয়া বা ওজন বাড়ানো এবং ওজন কমানোর দুটোকে প্রভাবিত করতে পারে।
আপনি যেটা চান অর্থাৎ আপনি যদি ওজন বাড়াতে চান তাহলে সাবুদানা উচ্চ ক্যালরি এবং
ফ্যাট যুক্ত খাবারের সাথে মিশিয়ে নিয়মিত খাবেন তাহলে আপনার ওজন বাড়াতে সাহায্য
করবে। আর আপনি যদি ওজন কমাতে চান সাবুদানা খেয়ে তাহলে এটি আপনাকে কম পরিমাণে এবং
সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন খেতে হবে লো ফ্যাট খাবারের সাথে। তাই আপনি কিভাবে এবং
কত পরিমানে সাবুদানা খাচ্ছেন তার ওপরে প্রভাব নির্ভর করবে।
সাবুদানা খাওয়ার নিয়ম
সাবুদানা খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে হয়তো অনেকেই জানেন না। আমরা না জেনে বেশিরভাগ
মানুষ সাবুদানা খেয়ে থাকি কারণ এটি আমাদের পছন্দ। তাই আমরা যদি এর নিয়ম জেনে
খায় তাহলে এটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী হবে। সাবুদানা একটি
পুষ্টিগুণে ভরপুর খাবার যা আমাদের শরীরের জন্য অনেক প্রয়োজনীয়। সাবুদানা সকালে
খেলে এটি আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী হয়। কেননা সাবুদানাতে রয়েছে প্রচুর
পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট যা আমাদের শরীরে শক্তি যোগায়।
সাবুদানা রাতেও খাওয়া যায় যেহেতু এটি সহজে হজম যোগ্য একটি খাবার তাই রাতে খেলেও
সহজে হজম হয়ে যায় এবং এতে পেটের কোন সমস্যা হয় না। সাবুদানা দিয়ে অনেক রকম
খাবার বানিয়ে খাওয়া যায়। যেমনঃ সাবুদানার পায়েস, পুডিং ইত্যাদি। সাবুদানা আরো
অনেক রকম ভাবে খাওয়া যায়। যেমন আপনি যদি অতিরিক্ত গরমে সাবুদানা ভালোমতো সিদ্ধ
করে সেটি বিভিন্ন ফলের সাথে মিশিয়ে খান তাহলে এটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য অনেক
উপকারী হবে এবং গরমে আরাম পাওয়া যায়।
আমরা যারা মুসলিম রয়েছি তারা যদি রমজান মাসে সাবুদানার সাথে বিভিন্ন রকমের ফল
মিশিয়ে সাথে হালকা একটু আইসক্রিম মিশিয়ে ইফতারের সময় খায় তাহলে অনেক শান্তি
লাগে। এভাবে খেলে শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় থাকে। আর যারা অন্য ধর্মের রয়েছেন
তারাও সারাদিন উপবাসের পর এভাবে খেতে পারেন তাহলে শরীরে অনেক আরাম লাগে আত্মা
ঠান্ডা হয়ে যায়। সাবুদানা একটি পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার তাই আপনি যেভাবে খাবেন সেটাই
আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হবে।
গর্ভাবস্থায় সাবুদানা খাওয়ার উপকারিতা
গর্ভাবস্থায় সাবুদানা খাওয়ার উপকারিতা রয়েছে অনেক। গর্ভাবস্থায় একটি মেয়ের
জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। এ সময় অনেক পুষ্টিকর খাবারের প্রয়োজন হয়।
গর্ভাবস্থায় অনেক অনেক ক্লান্তি লাগে এবং শরীর দুর্বল থাকে তাই এ অবস্থায়
সাবুদানা খেলে শরীরে শক্তি পাওয়া যায় এবং শারীরিক দুর্বলতা অনেকটাই কম হয়
কেননা সাবুদানায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট যা শরীরের শক্তি যোগাতে
সাহায্য করে।
আর গর্ভাবস্থায় অনেক মহিলার হজমের সমস্যা হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হয়ে
থাকে। এ অবস্থায় সাবুদানা খেলে তার সহজে হজম হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর
হয় কেননা সাবুদানা একটি সহজে হজম যজ্ঞ খাবার। সাবুদানা শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে
ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। এটি গর্ভবতী মহিলাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার
বিশেষ করে গরমের সময়। কেননা গর্ভবতী মহিলাদের সাধারণ মানুষের চাইতে গরম বেশি
লাগে।
তাই এই সময় সাবুদানা খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে। গর্ভাবস্থায় একজন গর্ভবতী মহিলার
জন্য ফোলেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কেননা ফোলেট শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশে
সাহায্য করে।সাবুদানাতে রয়েছে কিছু পরিমাণ ফোলেট যা গর্ভবতী মায়ের জন্য উপকারী।
গর্ভাবস্থায় অনেক মহিলার উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকে সাবুদানায় রয়েছে
পটাশিয়াম যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। তাই এই সময়ে সাবুদানা
একজন গর্ভবতী মহিলার জন্য প্রয়োজনীয় খাবার।
দুধ সাবু খাওয়ার উপকারিতা
দুধ সাবু খাওয়ার উপকারিতা অনেক। কেননা দুধ অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি খাবার এবং
সাবুও পুষ্টিকর একটি খাবার দুটি মিলে একত্রে আরো বেশি পুষ্টিকর খাবার তৈরি হয়।
যাদের শারীরিক দুর্বলতা রয়েছে তাদের জন্য দুধ সাবু একটি অত্যন্ত আদর্শ খাবার।
দুধ সাবু একত্রে খেলে এটি শরীরে দ্রুত শক্তি যোগায় এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা
দূর করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী, রোগী এবং দুর্বল ব্যক্তিদের
জন্য দুধ চাবু একটি উৎকৃষ্ট মানের খাবার।
সাবুদানায় প্রচুর কার্বোহাইড্রেট থাকে যা শরীরকে তাৎক্ষণিকভাবে শক্তি যোগায়।
দুধে রয়েছে ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিন যা শরীরের মাংসপেশি গঠন করতে এবং হাড়কে
মজবুত করতে সাহায্য করে। দুধ সাবু শারীরিক দুর্বলতা দূর করতে বিশেষভাবে
কার্যকারী। যাদের কষ্ট কাঠিন্য এবং হজমের সমস্যা রয়েছে তারা দুধ সাবু খেতে পারেন
কেননা দুধ সাবু সহজে হজম যোগ্য খাবার। গর্ভাবস্থায় যাদের ওজন কম থাকে তাদের জন্য
দুধ যাব একটি আদর্শ খাবার।
সাবুদানা খেলে কি পায়খানা নরম হয়
সাবুদানা খেলে কি পায়খানা নরম হয় এ বিষয়টি অনেকে জানতে চান। সাবুদানা খেলে
পায়খানা নরম হবে কিনা সেটি আপনার খাওয়ার নিয়মের ওপর নির্ভর করবে।
আপনি যদি পরিমিত পরিমাণে নিয়ম করে খান তাহলে এটি আপনার পায়খানা নরম করতে
সাহায্য করবে। কেন নাসা আবু দ্বারা সহজে হজমযোগ্য এবং এতে ফাইবার কম রয়েছে।
সাবুদানার পানের শোষণ ক্ষমতা বেশি এটি শরীরে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে।
আরো পড়ুনঃ কলার উপকারিতা ও অপকারিতা-কলা খাওয়ার নিয়ম
আপনি যদি যথেষ্ট পরিমাণ পানি দিয়ে সাবুদানা খান তাহলে এটি আপনার শরীরে জলীয়
পদার্থ বজায় রাখতে সাহায্য করবে ফলে এটি পায়খানা নরম করতে সাহায্য করে। তবে
আপনি যদি অতিরিক্ত পরিমাণ সাবুদানা খান সে ক্ষেত্রে আপনার পেটের জন্য সমস্যা হতে
পারে কেননা এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট এবং খাইবার কম রয়েছে। আর
অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট শরীরের জন্য উপকারী নয় তাই আপনাকে পরিমাণ মতো সাবুদানা
খেতে হবে।
আসল সাবুদানা চেনার উপায়
আসল সাবুদানা চেনার উপায় জানা আমাদের সকলের জন্য প্রয়োজন। কেননা আমরা
অনেকেই সাবুদানা খেতে পছন্দ করি কিন্তু বাজারে যে সাবুদানা পাওয়া যায়
অনেক সময় তা ভেজাল যুক্ত হয় যেটা আমাদের শরীরের জন্য মোটেও উপকারী নয়। তাই আসল
নকল সাবুদানা চেনা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক
আমরা কিভাবে আসল এবং নকল সাবুদানার মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারবো।আসল সাবুদানা
ধবধবে সাদা রঙের হয় এবং এগুলোর দানা একটি সাথে আরেকটি লেগে থাকে না।
আর নকল সাবুদানা হালকা হলুদাভ রংয়ের হয়ে থাকে। আসল সাবুদানার দানাগুলো ছোট এবং
চকচকে হয় এতে কোন ফাটল বা খসখসে ভাব থাকে না। কিন্তু নকল সাবুদানা এর নানা গুলো
মসৃণ হয় না এতে খসখসে ভাব থাকে এবং দানাগুলো অসমান হয়। আসল সাবুদানা পানি শোষণ
করতে পারে এগুলো পানি শোষণ করার পর সুন্দর হয়ে ফুলে উঠে এবং দেখতে স্বচ্ছ
হয়।কিন্তু নকল সাবুদানা পানি শোষণ করতে পারে না এগুলো ভুলে ওঠার পরিবর্তে একে
অপরের গায়ের সাথে লেগে যায়।
শিশুদের সাবুদানা খাওয়ার উপকারিতা
শিশুদের সাবুদানা খাওয়ার উপকারিতা কতটুকু তা আমাদের জানা দরকার। কেননা অনেক নতুন
মা আছেন যারা শিশুদের সাবুদানা খাইয়ে থাকেন। সাবুদানা অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং
হজমযোগ্য একটি খাবার। শিশুদের হজম ক্ষমতা কম থাকে তাই সাবুদানা শিশুদের জন্য একটি
আদর্শ খাবার কেননা এটি সহজে হজম হয়। সাবুদানায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে
কার্বোহাইড্রেট যা শিশুদের দ্রুত শক্তি জাগাতে সাহায্য করবে।
বিশেষ করে শিশুরা যখন খেলাধুলা করে তখন তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ে সাবুদানা খেলে
শিশুদের এই ক্লান্তি দূর হবে এবং শরীরের শক্তি পাবে। যদি কোন শিশুর শারীরিক
দুর্বলতা থাকে এবং ওজন কম হয় তাহলে সাবুদানা এবং দুধ একসাথে মিশিয়ে খাওয়াতে
পারেন এটি তার ওজন বাড়াতে এবং শারীরিক দুর্বলতা কমাতে সাহায্য করবে। কেননা
সাহাবুতে রয়েছে ক্যালোরি যা শিশুর ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। শিশুর ওজন বাড়ানোর
জন্য সাবু এবং দুধ একটি আদর্শ খাবার হতে পারে।
সাবুদানা খাওয়ার অপকারিতা
সাবুদানা খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কেও আমাদের জানা দরকার। কেননা আমরা সাবুদানা
পুষ্টিকর এবং উপকারী ভেবে যদি অতিরিক্ত পরিমাণে খায় তাহলে সেটি আমাদের
স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হবে। প্রত্যেক জিনিসেরই উপকারিতার পাশাপাশি কিছু
অপকারিতাও রয়েছে সাবুদানার ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনি অপকারিতা রয়েছে। সাবুদানা
পরিমিত পরিমাণে খেলে এর থেকে উপকার পাওয়া যায়। তবে এটি যদি আপনি অতিরিক্ত
পরিমাণে খান তাহলে সেটি আপনার জন্য উপকার বয়ে আনবে না।
সাবুদানা রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি এবং কার্বোহাইড্রেট যা আমাদের শরীরে
ফ্যাট জমতে এবং ওজন বাড়াতে কার্যকরী হবে। তাই আমরা যদি ওজন নিয়ন্ত্রণে
রাখতে চায় তাহলে অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে সাবুদানা খাওয়ার চেষ্টা করবো। যারা ওজন
কমাতে চান তারা অতিরিক্ত সাবুদানা খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। সাবুদানা বেশি
পরিমাণে খাওয়ার ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর কেননা এতে রয়েছে প্রচুর
পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট যার ডায়াবেটিস রোগী্র জন্য ভালো নয়।
লেখক এর মন্তব্যঃ সাবুদানা খাওয়ার উপকারিতা
সাবুদানা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে উপরে আলোচনা করা হয়েছে সেই সাথে সাবুদানার
বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আশা করছি আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা সাবুদানা সম্পর্কে
বিভিন্ন তথ্য জানতে পেরেছেন। সাবুদানা অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং উপকারি একটি খাবার।
তবে এর উপকারিতা আপনি তখনই পাবেন যখন এটি সঠিক পরিমাণে খাবেন। আপনি যদি অতিরিক্ত
পরিমাণে সাবুদানা খান তাহলে এটি আপনার জন্য উপকারী হবে না।
তাই আপনাকে সাবুদানা থেকে উপকার পাওয়ার জন্য সঠিক পরিমাণে খেতে হবে। এটি কিছু
কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতিকর ফলাফল নিয়ে আসে। যারা ওজন কমাতে চান তারা অবশ্যই ডায়েট
অনুসরণ করে সাবুদানা খাবেন। আর যারা ওজন বাড়াতে চান তারা উচ্চ গ্যালারি এবং
ফ্যাটযুক্ত খাবারের সাথে মিশিয়ে সাবুদানা খাবেন তাহলে আপনারা ভালো ফলাফল পাবেন।
আমরা যেহেতু স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ তাই আমরা সচেতন ভাবে সঠিক পরিমাণে সাবধানে
খাওয়ার চেষ্টা করবো।
আর এস ড্রিমস ব্লগেনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url