জেনে নিন পুদিনা পাতার চা এর বিস্ময়কর উপকারিতা

থানকুনি পাতার জাদুকরী ১৫টি উপকারিতা ও অপকারিতা জানুন বিস্তারিতপুদিনা পাতার চা এর উপকারিতা অনেক। পুদিনা পাতার ভেষজ উপাদান সর্দি-কাশি ও মাথাব্যথায় জাদুর মত কাজ করে। আদিকাল থেকে পুদিনা পাতা ভেষজ চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ে আসছে। পুদিনা পাতার চা খেলে আপনার শরীর মুহূর্তে চাঙ্গা হয়ে উঠবে এটি এমন একটি ভেষজ উপাদান।

পুদিনা-পাতার-চা-এর-উপকারিতা

পুদিনা পাতার বিভিন্ন উপকারিতা সম্পর্কে জানতে হলে আজকের এই আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। আজকে পুদিনা পাতার চায়ের উপকারিতার সাথে সাথে পুদিনা পাতার বিভিন্ন গুণাগুণ সম্পর্কে আলোচনা করা হবে। পুদিনা পাতা এমন একটি পাতা যার গন্ধ শুকেই অনেক রোগ সেরে যায়।

পেজ সূচীপত্রঃ পুদিনা পাতার চা এর উপকারিতা

পুদিনা পাতার চা এর উপকারিতা

পুদিনা পাতার চা এর উপকারিতা অসাধারণ। পুদিনা পাতা শুধু রান্নার স্বাদ ও গন্ধই বাড়ায় না, এর তৈরি চা-ও স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। নিয়মিত পুদিনা পাতার চা পান করলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়, এটি মানসিক চাপ কমাতেও সাহায্য করে। পুদিনা পাতায় থাকা মেন্থল হজম শক্তিকে বৃদ্ধি করে, গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা দূর করে থাকে। পুদিনা পাতার চা সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা এবং নাক বন্ধ হওয়ার সমস্যার সমাধানেও সাহায্য করে থাকে।

যাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম ঘন ঘন সর্দি ঠান্ডা লেগে যায় তারা নিয়মিত পুদিনা পাতার চা খেতে পারেন এতে আপনি অনেক উপকৃত হবেন। পুদিনা পাতার চা পান করলে এত দ্রুত মাথাব্যথা সেরে যায় আপনি চিন্তাও করতে পারবেন না। আপনার যদি প্রচন্ড মাথা ব্যথা হয় তখন পুদিনা পাতার চা পান করেন এবং চা পান করার পর কিছুক্ষণ রেস্ট করেন তাহলে দেখবেন আপনার মাথা ব্যথা উধাও হয়ে গেছে কোন প্রকার ব্যথার ওষুধ ছাড়াই এটি আমি নিজে পরীক্ষিত।

পুদিনা পাতার প্রাকৃতিক আন্টি ব্যাকটেরিয়াল মুখের দুর্গন্ধ কমাতে সাহায্য করে। তাই যাদের মুখে দুর্গন্ধ জনিত সমস্যা রয়েছে তারা নিয়মিত পুদিনা পাতার চা পান করতে পারেন। এতে আপনার সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে। তবে এটি দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করলে আপনি দীর্ঘমেয়াদী ফল পাবেন। পুদিনা পাতার চা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে যা ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কার্যকারী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম। তাই যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান তারা নিয়মিত পুদিনা পাতার চা পান করতে পারেন।

পুদিনা পাতার চা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে এবং ত্বকে বিভিন্ন ধরনের ব্রণের সমস্যা দূর করে থাকে। পুদিনা পাতার চা মেয়েদের হরমোন জনিত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে মেয়েদের পিরিয়ডের সময় যে ব্যথা হয় পুদিনা পাতার চা পান করলে সেই ব্যথা অনেকটাই উপশম হয়। পুদিনা পাতার চা পান করে এসব উপকারিতা পাওয়ার জন্য অবশ্যই আপনাকে সঠিক নিয়মে পুদিনা পাতার চা পান করতে হবে। অতিরিক্ত পরিমাণে পুদিনা পাতা চা পান করলে সেটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হবে না।

পুদিনা পাতার চা বানানোর নিয়ম

পুদিনা পাতার চা বানানোর নিয়ম সম্পর্কে অবশ্যই আমাদের ধারণা থাকা প্রয়োজন। কেননা আমরা পুদিনা পাতার চা উপকারিতার জন্য পান করবো তাহলে আমরা যদি এর সঠিক নিয়ম না জানি তাহলে এটি থেকে আমরা উপকার পাওয়ার চাইতে ক্ষতি হতে পারে। তাই চলুন জেনে নেয়া যাক পুদিনা পাতার চা কিভাবে বানাতে হয়। পুদিনা পাতার চা কয়েকভাবে বানানো যায়। যেমনঃ আপনি যদি শুধু পুদিনা পাতার চা বানাতে চান।

তাহলে এক কাপ পরিমাণ পানি ভালো করে ফুটিয়ে ফুটন্ত পানের মধ্যে ৬-৭টা পুদিনা পাতা দিয়ে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে তারপরে ছেঁকে নিয়ে সেই পানি চায়ের মত করে পান করতে পারেন। আবার আপনি যদি মসলা দিয়ে পুদিনা পাতা চা বানাতে চান তাহলে সে ক্ষেত্রে অল্প একটু আদা তেজপাতা লবঙ্গ এলাচ গরম মসলা সবকিছু অল্প অল্প করে দিয়ে দেড় কাপ পানি নিয়ে কিছুক্ষণ মসলাগুলো ফুটানোর পর সেই ফুটন্ত পানিতে ৬-৭ টা পুদিনা পাতা দিয়ে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে তারপর ছেকে নিয়ে চায়ের মতো করে পান করতে পারেন।

আবার আপনি যদি চায়ের লিপারের সাথে পুদিনা পাতা দিয়ে চা বানাতে চান তাহলে দেড় কাপ ফুটন্ত পানিতে চা পাতা দিয়ে কিছুক্ষণ ফুটানোর পর সেই পানিতে৬-৭ টি পুদিনা পাতা দিয়ে কিছুক্ষন ফুটানোর পর ছেঁকে নিয়ে পান করতে পারেন। এভাবে আপনি আপনার পছন্দমত পুদিনা পাতা দিয়ে চা বানিয়ে পান করতে পারেন। আপনি যদি চায়ের সাথে একটু মিষ্টি স্বাদ পেতে চান তাহলে এর সঙ্গে মধু মিশিয়েও পান করতে পারেন। এভাবে চা বানিয়ে আপনি নিয়মিত পান করলে আপনার শরীরের অনেক ধরনের সমস্যা দূর হতে পারে।

পুদিনা পাতার ব্যবহার

পুদিনা পাতার ব্যবহার সম্পর্কে বলতে গেলে এটি রান্না সহ রূপচর্চা, চিকিৎসা, চুলের যত্নে এবং ঘরোয়া বিভিন্ন টোটকার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। পুদিনা পাতা অত্যন্ত উপকারী এবং পুষ্টিগুণ সম্পন্ন একটি পাতা যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। বিভিন্ন ধরনের চালাক বানানোর ক্ষেত্রে কাঁচা পুদিনা পাতা কুচি করে ব্যবহার করতে পারেন। পুদিনা পাতা, ধনেপাতা, কাঁচামরিচ, লবণ, টক দই একসাথে ব্লেন্ড করে এক ধরনের পানীয় বানানো হয় যা খাবারের পর পান করলে খাবার হজম হতে সাহায্য করে।

আরো পড়ুনঃ জেনে নিন বিটরুট জুস খাওয়ার সঠিক নিয়ম

পোলাও বিরিয়ানি এবং বিভিন্ন ধরনের তরকারিতে স্বাদ ও গন্ধ বাড়ানোর জন্য পুদিনা পাতা ব্যবহার করতে পারেন। এটি যেমন আপনার খাবারের স্বাদ এবং গন্ধ বৃদ্ধি করবে তেমনি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হবে। বিভিন্ন ধরনের সুপ তৈরিতেও পুদিনা পাতা ব্যবহার করা যেতে পারে ভিন্নতা আসে যা খেতে ভালো লাগে। পুদিনা পাতার চা তৈরি করেও পান করা যায়। ভারী খাবারের পর পুদিনা পাতার চা পান করলে হজমে সহায়তা করে।

পুদিনা পাতার চা পান করলে মাথা ব্যাথা খুব দ্রুত উপশম হয়। পুদিনা পাতায় রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বক উজ্জ্বল হয়। পুদিনা পাতার তেল বানিয়ে মাথায় মেসেজ করলে মাথার রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং মাথার খুশকি দূর করতে সাহায্য করে। মুখের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য পুদিনা পাতা চিবিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। কোন জায়গা ক্ষত তৈরি হলে পুদিনা পাতার বেটে সেখানে লাগালে আরাম পাওয়া যায়।

পুদিনা পাতার জুস এর উপকারিতা

পুদিনা পাতার জুস এর উপকারিতার কথা বলতে গেলে এটি শুধু একটি সুস্বাদু জুস নয় এটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যও অনেক উপকারী। পুদিনা পাতায় রয়েছে ভিটামিন এ, সি, বি কমপ্লেক্স, এন্টিঅক্সিডেন্ট, আয়রন এবং মেন্থল যা আমাদের শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। পুদিনা পাতার জুস হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে এবং গ্যাস, পেট ফাঁপার সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। ভারী খাবার খাওয়ার পর পুদিনা পাতার জুস খেলে হজম ভালো হয়।পুদিনা পাতার জুসে থাকা প্রাকৃতিক এন্টি ব্যাকটেরিয়াল মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে। 

পুদিনা-পাতার-চা-এর-উপকারিতা
পুদিনা পাতার জুস ত্বকের করতে এবং মুখের দাগ কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত পুদিনা পাতার জুস খেলে ক্ষুধা কমে যা ওজন নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখে। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান তারা নিয়মিত পরিমাণমতো পুদিনা পাতার জুস খেতে পারেন। পুদিনার মেন্থল উপাদান সর্দি কাশি এবং গলা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। পুদিনা পাতার জুসে থাকা অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

পুদিনা পাতা খাওয়ার নিয়ম

পুদিনা পাতা খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বলতে গেলে এটি একটি স্বাস্থ্যকর পাতা যা আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারিতা তবে এটি সঠিক নিয়ম মেনে খেলে উপকার পাওয়া সম্ভব। পুদিনা পাতা বিভিন্নভাবে খাওয়া যায়। যেমনঃ কাঁচা চিবিয়ে খাওয়া যায়। পুদিনা পাতা কাঁচা চিবিয়ে খেলে মুখের দুর্গন্ধ জনিত সমস্যা দূর হয়। আবার এটি কাচায় বিভিন্ন সালাদের সাথে কুচি করে দিয়ে খেলেও সুন্দর একটা সাজ পাওয়া যায় এবং সুগন্ধ আসে। পুদিনা পাতায় রয়েছে ভিটামিন সি যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

পুদিনা পাতার চা এবং জুস বানিয়েও পান করা যায়। এটিও স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। সর্দি কাশি হলে পুদিনা পাতার রস হালকা গরম করে মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। পুদিনা পাতার ডিটক্স ওয়াটার বানিয়েও পান করা যায়। এডিট অফ ওয়াটার সারাদিন অল্প অল্প করে পান করলে শরীর থেকে টক্সিন বের হয়ে যায় এবং শরীর হাইড্রেট থাকে। পুদিনা পাতা খাওয়ার সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে কেননা অতিরিক্ত পুদিনা পাতা খেলে আবার বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে।

চুলের যত্নে পুদিনা পাতার উপকারিতা

চুলের যত্নে পুদিনা পাতার উপকারিতা অনেক। পুদিনা পাতায় থাকা এন্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং এন্টিফাঙ্গাল উপাদান চুলের খুশকি দূর করতে সাহায্য করে। পুদিনা পাতায় রয়েছে মেন্থল যার রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে ফলে এটি নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। চুলের গোড়ায় নিয়মিত পুদিনা পাতার রস ব্যবহার করলে চুল দীর্ঘ সময় ধরে সতেজ এবং উজ্জ্বল থাকে। পুদিনা পাতায় থাকা ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান চুলের গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করে।

আরোপড়ুনঃ কাঁচা আমলকি খেলে মিলবে যেসব আশ্চর্য উপকারিতা

যারা প্রাকৃতিকভাবে চুলকে সুন্দর এবং স্বাস্থ্যকর রাখতে চান তারা নিয়মিত প্রতি সপ্তাহে একদিন পুদিনা পাতার মাস্ক চুলে ব্যবহার করতে পারেন। এতে আপনার চুলের গোড়া মজবুত হবে, মাথার খুশকি দূর হবে, চুল পড়া বন্ধ হয়ে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে। অনেকের মাথার তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকে ফলে এটি অনেক কষ্টদায়ক হয়। যাদের এরকম ধরনের সমস্যা রয়েছে তারা নিয়মিত পুদিনা পাতা  বেটে মাথায় লাগালে মাথা ঠান্ডা হবে। কেননা পুদিনা পাতার মেন্থল উপাদান মাথা ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।

রান্নায় পুদিনা পাতার ব্যবহার

রান্নায় পুদিনা পাতার ব্যবহার সম্পর্কে বলতে গেলে এটি রান্নায় বহুল প্রচলিত। পুদিনা পাতা একটি সুগন্ধি এবং ভেষজ উপাদান যা বিভিন্ন ধরনের রান্নায় স্বাদ এবং ঘ্রাণ বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি শুধু রান্নায় সাত বৃদ্ধির জন্য নয় এটি হজম শক্তি বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। পুদিনা পাতা দিয়ে সুস্বাদু চাটনি তৈরি করা যায়। পুদিনা পাতা, টক দই, কাঁচা মরিচ, লেবুর রস ও লবণ একসাথে মিশিয়ে ব্লেন্ড করলে মজাদার  পুদিনা পাতার চাটনি তৈরি হয়ে যায়। পুদিনা পাতার ভর্তা ও তৈরি করা হয় এটি খেতে অনেক সুস্বাদু গরম ভাতের সাথে খেতে এটি সেই রকমের স্বাদ লাগে।

পোলাও, বিরিয়ানি রান্নাতে পুদিনা পাতা ব্যবহার করা হয়। এসব রান্নায় পুদিনা পাতা ব্যবহার করলে অন্য রকমের সুগন্ধি পাওয়া যায় খাবারে। বিভিন্ন ধরনের পানীয় তৈরিতে পুদিনা পাতা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন ধরনের সস তৈরিতেও পুদিনা পাতা ব্যবহার করা যেতে পারে এতে করে সোসে আলাদা একটা সুগন্ধ ছড়াবে। পুদিনা পাতা দিয়ে ডিটক্স ওয়াটার তৈরি করে আপনি যদি সারাদিন খেতে পারেন তাহলে এটি আপনার শরীরকে সতেজ রাখবে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করতে সাহায্য করবে।

রূপচর্চায় পুদিনা পাতার ব্যবহার

রূপচর্চায় পুদিনা পাতার ব্যবহার সম্পর্কে বলতে গেলে এটি রূপচর্চায় দারুন ভাবে কার্যকরী। পুদিনা পাতা শুধু রান্নার স্বাদ বাড়ানোর জন্যই নয় এটি ত্বক ও চুলের যত্নেও অনেক উপকারী। এতে থাকা এন্টি- ব্যাকটেরিয়াল, এন্টি-ইনফ্লামেটরি এবং এন্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান ত্বক ও চুলের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। পুদিনা পাতার প্রাকৃতিক এন্টিব্যাকটেরিয়াল ত্বকের ব্রণ দূর করতে এবং ইনফেকশন কমাতে সাহায্য করে। যাদের ত্বকে ব্রনের সমস্যা রয়েছে তারা নিয়মিত পুদিনা পাতার বিভিন্ন ধরনের প্যাক বানিয়ে মুখে লাগাতে পারেন।

পুদিনা-পাতার-চা-এর-উপকারিতা

পুদিনা পাতা চালের গুড়া ও মধু মিশিয়ে স্ক্রাব তৈরি করে মুখে মাসাজ করলে মুখের ব্ল্যাকহেডস এবং হোয়াইটহেডস দূর করতে সাহায্য করে। আপনি যদি প্রাকৃতিকভাবে ত্বককে উজ্জ্বল এবং দাগ মুক্ত করতে চান তাহলে নিয়মিত পুদিনা পাতার বিভিন্ন ধরনের ফেসপ্যাক বানিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। পুদিনা পাতা চুলের যত্নে অনেক উপকারী। পুদিনা পাতার রস মাথার ত্বকে মেসেজ করলে খুশকি দূর হয়। নিয়মিত সপ্তাহে দুইদিন পুদিনা পাতার হেয়ার প্যাক ব্যবহার করলে চুল পড়া রোধ হয় এবং মাথার চুলকানির সমস্যা দূর হয়।

পুদিনা পাতার অপকারিতা

পুদিনা পাতার অপকারিতা সম্পর্কে বলতে গেলে এটি অনেক উপকারী একটি ভেষজ পাতা হলেও এর বেশ কিছু অপকারিতা রয়েছে। পুদিনা পাতা আমাদের হজমে অনেক সহায়তা করে ঠিকই কিন্তু এটি যদি অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া হয় তাহলে আবার হজম জনিত সমস্যা হয়ে পেটে গ্যাস বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে। যাদের অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে তারা পুদিনা পাতার ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো। পুদিনা পাতা অনেক সময় এলার্জির সমস্যা বাড়াতে সহায়ক হয়। যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে তারা পুদিনা পাতা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবেন।

গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য পুদিনা পাতা ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ। পুদিনা পাতা জরায়ুর সংকোচন ঘটিয়ে গর্ভপাতের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। পুদিনা পাতা স্তন্যদানকারী মায়েদের দুধ উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে তাই গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মায়েরা পুদিনা পাতা খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। অতিরিক্ত পুদিনা পাতা ব্যবহারের ফলে কিডনি ও লিভারের উপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তাই অতিরিক্ত পুদিনা পাতা খাওয়া থেকে বিরত থাকাই ভালো।

লেখক এর মন্তব্যঃ পুদিনা পাতার চায়ের উপকারিতা

পুদিনা পাতার চা এর উপকারিতা সম্পর্কে উপরে অনেক কিছু আলোচনা করা হয়েছে সেই সাথে পুদিনা পাতার উপকারিতা অপকারিতা ব্যবহার সহ আরো অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যা থেকে আপনারা পুদিনা পাতা সম্পর্কে বিশদ তথ্য পেতে পারেন। পুদিনা পাতা অত্যন্ত উপকারী একটি পাতা যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। এটি রান্না থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য, রূপচর্চা, চুলের যত্ন সবকিছুতেই সঠিক পরিমাণে ব্যবহার করলে অনেক উপকারী হয়।

পুদিনা পাতা অনেক উপকারী হলেও এর কিছু অপকারিতাও রয়েছে। যার জন্য পুদিনা পাতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদেরকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কেননা যে পাতাটি আমাদের জন্য খুবই উপকারী সেটি যদি অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যবহার করলে আমাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি হয় তাহলে অবশ্যই আমরা সেটি সতর্কতার সাথে অল্প পরিমাণে ব্যবহার করবো। এটি সঠিক পরিমাণে ব্যবহার করলে এর থেকে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যায়। তাই চলুন আমরা সতর্কতার সাথে সঠিক পরিমাণে পুদিনা পাতা ব্যবহার করি এবং সুস্থ থাকার চেষ্টা করি।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আর এস ড্রিমস ব্লগেনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url